শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
গুম কমিশনের রিপোর্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ওই রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
শুনানি শেষে তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে বলে গুম কমিশন তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে। ওই রিপোর্ট ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা জুলাই-আগস্টের গণহত্যার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। এ তদন্ত শেষ করার জন্য ট্রাইব্যুনাল দুই মাস সময় দিয়েছেন। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ইস্যুর অগ্রগতি সম্পর্কে আইজিপির কাছে জানতে চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
অন্যদিকে, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ‘হত্যা-গণহত্যার’ মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ মোট ১৬ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে গোলাম দস্তগীর গাজীকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে আনা হয়। এদিন বিভিন্ন কারাগার থেকে একে একে সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, আমলা, বিচারপতি এবং রাজনীতিবিদসহ মোট ১৬ জনকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত এক মাসের মধ্যে শেষ করতে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সময়সীমা বাড়িয়ে আরও দুই মাস দেওয়া হয়েছে।
তদন্তাধীন এই ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, ফারুক খান, দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, আমির হোসেন আমু এবং কামরুল ইসলাম। এছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী ও সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
২৭ অক্টোবর আরও ১০ জন মন্ত্রী, দুই উপদেষ্টা, একজন সাবেক বিচারপতি এবং একজন সাবেক সচিবসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তাদের ১৮ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ওইদিন ৯ মন্ত্রীসহ ১৩ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়।
ছাত্র আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনকাল শেষ হয় ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের ফলে।